খৈয়াছড়া জলপ্রতাপ

August 23, 2023 0 Comments

সোনালী ধানক্ষেত, আঁকা বাঁকা পাহাড়ি পথ আর বিস্তীর্ণ সবুজের সমারোহ, পিচ্ছিল মেঠো পথ আর কিছু ঝিরি পেরুলেই সামনে আসে অবিশ্বাস্য এক ঝর্ণাধারা। এ যেন এক সহস্রধারা, প্রকৃতির এক বিস্ময় জলধারা। যান্ত্রিক জীবনের অবসাদ ধুয়ে-মুছে সজীব নিঃশ্বাস নিতে আসা প্রকৃতিপ্রেমী ভ্রমণ পিপাসু মানুষের কন্ঠে যেন জীবনানন্দের কবিতা,

‘বাংলার মুখ আমি দেখিয়াছি,

তাই পৃথিবীর রূপ দেখিতে চাহি না  আর।

এই গল্পের নাম ভূমিকায় আছে চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের গহীন পাহাড়ে অবস্থিত মৃত্যু কুপ নামে পরিচিত ভয়ংকর এক জলপ্রপাত। প্রকৃতির নান্দনিক তুলিতে আঁকা পাহাড়ের কান্নার এ ছবি দেখে মুগ্ধ ভ্রমণ-পিয়াসী মানুষ।

হ্যা বন্ধুরা আজ শুনাবো সেই ভয়ংকর খৈয়াছড়া জলপ্রতাপের গল্প। জানাবো কিভাবে যাবেন, কোথায় থাকবেন, কোথায় খাবেন, সাথে কি কি নিবেন এবং কত খরচ পড়বে।

খৈয়াছড়া জলপ্রতাপ

খৈয়াছড়া জলপ্রতাপ মিরসরাই উপজেলার খৈয়াছড়া ইউনিয়নের বড়তাকিয়া বাজারের উত্তর পার্শ্বে ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়কের ৪.২ কিলোমিটার পূর্বে অবস্থিত। এর মধ্যে ১ কিলোমিটার পথ গাড়িতে যাওয়ার পর বাকী পথ যেতে হবে পায়ে হেঁটে যেতে হবে। বাঁশের সাঁকো, ধানক্ষেত, আঁকা বাঁকা  পাহাড়ি পথ, ছড়া এবং ৪টি পাহাড় পেরিয়ে যেতে হবে প্রকৃতির এই বিস্ময় জলপ্রতাপের সান্নিধ্যে।

মোট ১২ টি ধাপ নিয়ে গঠিত এই ঝর্ণাটি সমুদ্র সমতল থেকে প্রায় ২০০০ ফুট উপরে উঠে গেছে।

এই উচ্চতা নিয়ে প্রশ্ন আছে। কেও এর চেয়ে বেশি বলে আবার কেও কম। সঠিক উত্তর পাওয়া যায়নি।

যারা যারা একবার খৈয়াছড়া জলপ্রতাপ দেখেছেন তাদের মনে একটিই প্রশ্ন উঁকি দেয় বার বার ‘বাংলাদেশে এমন সৌন্দর্যের ঝর্ণা দ্বিতীয়টি আর আছে কিনা?

ইতিহাস

প্রায় ৫০ বছর আগে পাহাড়ি ঢলের ফলে এই জলপ্রতাপ টি তৈরি হয়েছে বলে ধারনা করা হয়। তবে মানুষজনের চলাচল সেভাবে না থাকায় ২০১০ সালের আগ পর্যন্ত সবার কাছে এই ঝর্ণার অস্তিত্ব গোপনই ছিল। ২০১০ সালে সরকার বারৈয়াঢালা ব্লক থেকে কুন্ডেরহাট যা বর্তমানে বরতাকিয়া ব্লকের ২৯৩৩.৬১ হেক্টর পাহাড়কে জাতীয় উদ্যান হিসেবে ঘোষণা করা হয়। তখন খৈয়াছড়া র্ঝণা জাতীয় উদ্যানের আওতাভুক্ত হয়। আর আবিস্কার হয়ে যায় এই অপরূপ জলপ্রতাপের।

যা যা ইঞ্জয় করবেন

অনেকেই নয় ধাপের প্রথম ধাপে এসে খানিক পানিতে ভিজে ফিরে যান। কিন্তু প্রথম ধাপ থেকেই সব মজার শুরু! যত উপরে উঠবেন তত মজা তবে কষ্ট অনেক বেশি।

প্রথম ধাপের বাম পাশে খাড়া ভাবে উঠে গেছে একটা দেয়ালের মত শক্ত ও পিচ্ছিল মাটি, সেটা বেয়ে উঠতে হয়, কখনও শেকড় ধরে, বিভিন্ন ছোট ছোট গর্তে পা দিয়ে। প্রতি মুহূর্তে ভয় আপনার পিছনে লাগা থাকবে। আপনার মনে হবে আপনি এই বুঝি  পা পিছলে পড়ে গেলেন। এভাবে বিভিন্ন ধাপে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে আপনি আস্তে আস্তে উঠতে থাকবেন উপরে আর উপভোগ করবেন রোমান্স। পথে মাঝে একটা দুটো প্রাকৃতিক পুকুর পাবেন, যেখানে মনে চাইলে একটু ডুবে নিতেই পারেন। কয়েক ঘণ্টা সময়ের মাঝেই একদম উপরে উঠে আবার ফিরে আসতে পারবেন আপনি, তবে নেমে আসাটাও আর একটা এডভেঞ্চার বিশেষ।

কিভাবে যাবেন

ঢাকা থেকে সব ধরনের বাস চট্টগ্রামে যায়। বাসের ভাড়া ৫০০টাকা থেকে ২০০০টাকা পর্যন্ত। নন এসি হলে ৫০০টাকার মধ্য। শুধু নামার যায়গা বলবেন বড়তাকিয়া। তাহলে আপনাকে যেখানে নামিয়ে দেবে সেখানেই রয়েছে সাইনবোর্ড। বাকি রাস্তা আপনারা নিজেরাই বের করতে পারবেন। বড়তাকিয়া চট্টগ্রাম যাবার প্রায় দেড় ঘন্টা আগেই। তবে ট্রেন বা বিমানে শুবিধা হবে না আপনাকে অনেক পিছনে আসতে হবে। তাই বাসই ভালো।

কোথায় খাবেন

খৈয়াছড়া জলপ্রতাপে যাবার পথেই বিভিন্ন ঘরোয়া রেস্তরা পাবেন, যেগুলোতে আপনারা দুপুরের খাবার খেতে পারবেন এবং যাদের কাছে খুব নিরাপদ ভাবেই নিজেদের ব্যাগ গুলো জমা রেখে ঝর্ণার উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে যেতে পারবেন। তবে টাকা পয়সা এবং মোবাইল ক্যামেরা তো নিজের সাথেই রাখে সবাই। এখানে পর্যটনের জন্য তেমন পরিবেশ এখনও গড়ে উঠেনি। তাই আপনি ভালো কোন হোটেল বা রেস্তোরাঁ পাবেন না।

কোথায় থাকবেন

এই এলাকায় ট্যুরিজম সেভাবে গড়ে ওঠেনি, তাই ড়তাকিয়াতে থাকার কোন জায়গা নেই তেমন একটা। চাইলে এক দেড় ঘণ্টায় বাসে করে সহজেই চট্টগ্রাম শহরে চলে যেতে পারেন যেখানে রাতে থাকার জন্য প্রচুর উপায় আছে, সেটা তুলনামূলক নিরাপদও হবে। অনেকেই এলাকার বাসিন্দার সাথে কথা বলে থাকা খাওয়ার ব্যাবস্থা করেন। আমি ২ জন গাইডের নাম্বার দিচ্ছি তাদের সাথে কথা বলে ব্যাবস্থা করতে পারবেন। মোঃ তারেক –০১৮৩২৫৮৬৭৬৭, মোঃ সোহেল-০১৫২৪৮৩৯৯০।

সাবধানতা

স্থানীয় গাইড ছাড়া উপরে যাবেন না বিপদ হতে পারে। আমার দেয়া নাম্বারে যোগাযোগ করতে পারেন বা বড়তাকিয়া বাজারে গেলে ওখানে অনেক গাইড পাবেন।

বর্ষায় এসব এলাকা একটু বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে যায়, বিশেষ করে পিছলে যাবার সম্ভাবনা খুব বেশি থাকে। তাই খুব ভাল গ্রিপের জুতা পড়ে যাওয়াটা আপনার জন্য নিরাপদ হবে। 

যা যা সাথে নিবেন

১. ব্যাগ মাঝাড়ি সাইজের। বড় নিলে হাটা কষ্ট হবে।

২. হাপ বা কোর্টার প্যান্ট ২/৩ টা

৩. টি-শার্ট ২/৩ টি

৪. ক্যামেরা যদি থাকে না হলে তো ফোন আছেই

৫. ক্যাপ

৬. গামছা

৭. সানগ্লাস

৮. পলিথিন ব্যাগ

৯. পায়ের এংলেট  

সরাসরি ভিডিও দেখেন

Leave a Comment

Your email address will not be published.

Select the fields to be shown. Others will be hidden. Drag and drop to rearrange the order.
  • Image
  • SKU
  • Rating
  • Price
  • Stock
  • Availability
  • Add to cart
  • Description
  • Content
  • Weight
  • Dimensions
  • Additional information
Click outside to hide the comparison bar
Compare