সাত শহীদের মাজার

November 22, 2023 0 Comments

১৯৭১ সালের ২৬ই জুলাই বাংলাদেশ স্বাধীনতা যুদ্ধে কলমাকান্দা উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিস সংলগ্ন তিন রাস্তার মিলনস্থলে পাক বাহিনীর সাথে বন্দুক যুদ্ধে ৭ জন বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হয়েছিলেন। পরবর্তীতে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মরদেহ লেঙ্গুরা ইউনিয়নের ফুলবাড়ি নামক গ্রামে সমাহিত করা হয়, যা সাত শহীদের মাজার বা সপ্তশিখা নামে পরিচিত।

ছোট বড় পাহাড়, পাহাড়ি জলপ্রপাত, চীনা মাটির পাহাড়, নদী, খাল, বিল  আর  হাওড় নিয়ে নেত্রকোনা জেলা। সেখানে রয়েছে অসংখ্য দর্শনীয় স্থান। নেত্রকোনা একটি পর্যটনসমৃদ্ধ জেলা যেখানকার সব গুলা দর্শনীয় স্থান আপনার মন কারবে। প্রায় সারা বছর এই জেলাতে মানুষ বেড়াতে আসে। তবে সারা বছরের তুলনায় শীতে ভ্রমণ পিপাসুদের বেশি আগমন ঘটে এ জেলায়। অবসরে আপনিও চাইলে ঘুরে আসতে পারেন নেত্রকোনা জেলার সেরা দর্শনীয় স্থানে আশাকরি ভালো লাগবে। নেত্রকোনার দর্শনীয় স্থানের মধ্যে অন্যতম একটি হলো সাত শহীদের মাজার এই সাত শহীদের মাজারকে সপ্তশিখা বলে যা নেত্রকোনার সীমান্তবর্তী উপজেলা কলমাকান্দার লেঙ্গুরা ইউনিয়নের ফুলবাড়ির বাংলাদেশ-ভারতের নো ম্যান জোনে অবস্থিত। 

প্রকাণ্ড মেহগনি গাছের বাগানের ছায়ায় আচ্ছাদিত এই সাত শহীদের মাজারটি। এখানে সমাধিত হয়েছে মুক্তিযুদ্ধে পাক বাহিনীর সঙ্গে সম্মুখযুদ্ধে শহীদ হওয়া ৭ জন বীর মুক্তিযোদ্ধাদের। তারা হলেন,

১.  ডা. আব্দুল আজিজ

২. মো: ফজলুল হক

৩. মো: ইয়ার মাহমুদ

৪. ভবতোষ চন্দ্র দাস

৫.  মো: নূরুজ্জামান

৬.  দ্বিজেন্দ্র চন্দ্র বিশ্বাস

৭.  মো: জামাল উদ্দিন।

 এই মাজারের পাশ দিয়েই বয়ে গেছে ভারতের মেঘলয়ের গারো পাহাড় থেকে নেমে আসা গনেস্বরী নদী। সেখান থেকেই দেখা মিলবে ভারতের মেঘলয়ের গারো  পাহাড়গুলোর।

আমাদের বাংলাদেশের সীমানার ভেতরেও আছে উঁচু উঁচু টিলা। আর সেই টিলাগুলোর পাদদেশেই বাস করেন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী হাজং এবং অন্যান্য সম্প্রদায়। পাহাড়, টিলা, নদীর অপরুপ সৌন্দর্য্য ও শালবনের নিরবতা উপভোগ করার পাশাপাশি আরও দেখতে ও জানতে পারবেন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীদের জীবনাভাষ যা আপনার মন কাড়বে।

ঢাকা থেকে যেভাবে আসবেন:

 মহাখালী বাস টার্মিনাল থেকে বিআরটিসি, এনা ও হযরত শাহজালাল বাস কোম্পানির বাসগুলো প্রায় সারাদিনই নেত্রকোনায় যাতায়াত করে। বাসের টিকেট মূল্য ২৫০-৩০০ টাকা। এছাড়া ট্রেনে করে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন অথবা বিমানবন্দর স্টেশন থেকে মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস ও হাওর এক্সপ্রেসে করে নেত্রকোনা যাওয়া যায়। ট্রেনে শোভন চেয়ারের টিকেট মূল্য ১৯৫ টাকা ও এসি ৩৭৪ টাকা। ট্রেন থেকে নেমে নেত্রকোনা সদরের রাজুর বাজার থেকে ৩০০ টাকা ভাড়া দিয়ে মোটরসাইকেলে সরাসরি যাওয়া যায় সাত শহীদের মাজারে। এখানে যাওয়ার সবচেয়ে ভালো বাহন হল মোটরসাইকল।

নেত্রকোনায় কোথায় থাকবেন:

কলমাকান্দা উপজেলায় থাকার ভালো কোনো জায়গা নেই। তাই দিনে গিয়ে দিনে ফিরে আসাই ভালো তবে একান্তই থাকতে চাইলে নেত্রকোনা সদরে থাকতে পারেন। নেত্রকোনা সদরেও থাকার জন্য ফাইভ স্টার বা ভালো মানের হোটেল না থাকলেও মধ্যম মানের বেশ কয়েকটি সরকারি বেসরকারি রেস্ট হাউজ আছে যাতে একটি রাত ভালোভাবেই কাটিয়ে দিতে পারবেন। ভাড়া কমই মাত্র ১-২ হাজার টাকায় এগুলোতে থাকা যায়।

আরো পড়ুন

মুক্তাগাছা জমিদার বাড়ি

বিরিশিরি চীনামাটির পাহাড় 
শশী লজ- Shoshi Lodge

Leave a Comment

Your email address will not be published.

Select the fields to be shown. Others will be hidden. Drag and drop to rearrange the order.
  • Image
  • SKU
  • Rating
  • Price
  • Stock
  • Availability
  • Add to cart
  • Description
  • Content
  • Weight
  • Dimensions
  • Additional information
Click outside to hide the comparison bar
Compare